1. admin@sylheterkotha.com : admin :
  2. editor@sylheterkotha.com : editor :
March 5, 2026, 10:40 am
Title :
৯৬ ঘণ্টায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারাল যুক্তরাষ্ট্র গোয়াইনঘাটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ব্যাটারি ও কসমেটিকস জব্দ, আটক ২ বদলে যাচ্ছে কবি নজরুল অডিটরিয়ামের নাম, ফিরছে সাইফুর রহমানের নামে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে সিলেট ইয়াং স্টার এর খাদ্যসামগ্রী বিতরণে-কয়েস লোদী সিলেটে স্থানীয় সরকারের ফাঁকা পদে চোখ বিএনপি নেতাদের, আলোচনায় যারা এম এ জি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেটে সেনাবাহিনীর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন সিলেটের নবনির্বাচিত বিএনপির ৫ এমপিকে ড. এনামুল হক চৌধুরীর অভিনন্দন আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে… নির্বাচনে জয়ের পর আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে যা বললেন তারেক রহমান সিলেট ৬ আসনে এগিয়ে বিএনপি

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়কেরা-‘ছাত্র আন্দোলনে গিয়েছিল, আর ফিরল না। ‘গুলিবর্ষণে ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আয়াতুল্লাহ

  • Update Time : Tuesday, August 5, 2025
  • 110 Time View

Manual8 Ad Code

মধ্যনগর:গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবরে আয়াতুল্লাহ তার ভাইয়ের সঙ্গে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি গাজীপুরের মৌচাক এলাকা থেকে সফিপুর আনসার-ভিডিপি একাডেমির দিকে অগ্রসর হলে একাডেমির ভেতর থেকে আনসার বাহিনী গুলি চালায়। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল। গুলির মাঝখানে ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আয়াতুল্লাহ। পরে তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন থেকে শুরু হয় পরিবারের মরিয়া খোঁজ। আয়াতুল্লাহর পিতা ও ভাই ছুটে বেড়ান এক হাসপাতাল থেকে আরেকটিতে। কখনো কুমুদিনী হাসপাতাল, কখনো ঢাকা মেডিকেল, কখনো কাশিমপুর কারাগার পর্যন্ত। কোথাও খোঁজ মেলে না। পরিবার ধারণা করে—আয়াতুল্লাহর মৃতদেহ হয়তো অন্য লাশের সঙ্গে গুম করে ফেলা হয়েছে।

শহীদ আয়াতুল্লাহ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানার জলুসা গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম ও গৃহিণী শুভা আক্তারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। ২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম। পড়ালেখার পাশাপাশি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। থাকতেন বড় ভাই সোহাগ মিয়ার সঙ্গে, কালিয়াকৈরের জামতলা এলাকায়।

একদিন বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে আয়াতুল্লাহর ছবি দেখে চমকে ওঠে পরিবার। এরপর ১১ দিন পর ১৬ আগস্ট রাতে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পরদিন, ১৭ আগস্ট বিকেলে সমন্বয়কারীদের সহায়তায় পরিবার লাশ গ্রহণ করে।
সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মধ্যনগর বাজার সংলগ্ন উব্দাখালী নদীর পাশে নির্মাণাধীন সেতুর ওপর জানাজা শেষে রাত আড়াইটায় শহীদ আয়াতুল্লাহকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Manual1 Ad Code

আয়াতুল্লাহর বড় ভাই সোহাগ মিয়া বলেন, ‘ও প্রায় প্রতিদিন ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিত। আন্দোলনে চলাকালে অনেক গুলিবিদ্ধ ছাত্রকে আমি রিকশায় হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ‘

Manual3 Ad Code

শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেকে আলেম বানাতে চেয়েছিলাম। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। কিন্তু সে দেশের জন্য শহীদ হয়ে গেছে—এটাই এখন গর্ব। আমি চাই, আয়াতুল্লাহসহ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

Manual7 Ad Code

আয়াতুল্লাহর শোক এখনো ভুলতে পারেনি তাঁর পরিবার। বিশেষ করে মা শুভা আক্তার—আজও যিনি ছেলের কথা উঠলেই ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশীদের সান্ত্বনা, আত্মীয়দের সোহাগ—কোনো কিছুই কমাতে পারছে না তাঁর বুকফাটা আহাজারি।
কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সবার ছোট ছিল আমার আয়াতুল্লাহ। ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল—একদিন ভালো চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ছাত্র আন্দোলনে গিয়েছিল, আর ফিরল না। ‘

শহীদ আয়াতুল্লাহর দাদা মরহুম আব্দুর রহিম ছিলেন কালারচান ফকির এলাকায় একজন মরমী সাধক ও ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগের চেতনা পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ।
আজ সেই ত্যাগের প্রতীক হয়ে তিনি রয়ে গেছেন তাঁর গ্রামের মাটিতে। তাঁর রক্তের ঋণ ইতিহাস ভুলবে না। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ত্যাগের কি যথাযথ মূল্যায়ন হবে?

Manual6 Ad Code

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Sylheter Kotha
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!