সিলেটের কথা ::: একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সে অর্জিত জ্ঞানকে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে শেখে। তাই সন্তানদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন, শিষ্টাচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় অভ্যস্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও উৎসাহিত করতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সিলেট নগরীর শামীমাবাদস্থ কুরানিক এডুকেয়ার দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠানের সুপারিনটেনডেন্ট মুফতী ক্বারী মাওলানা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা মো. সালেক আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদুজ্জামান।
সহ-সুপার মাওলানা শফিকুর রহমান ও ইংরেজি শিক্ষক তাহমিদ হাসানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার মাথিউরা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবির আকন্দ ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার এমজেএইচ জামিল।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সহ-সুপার (এডমিন) হাফিজ মাওলানা শাফী আহমদ, সহকারী শিক্ষক হাফিজ নাঈম আহমদ, হাফিজ মাওলানা তোফায়েল আহমদ, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হাফিজ আশরাফ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এসময় অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় মুরব্বি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মুসলমানদের জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জান্নাত অর্জন। এজন্য শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। সন্তানদের দ্বীন ও দুনিয়া সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্রে গড়ে তুলতে হবে। কুরআন ও হাদীসের আলোকে আদর্শ প্রজন্ম তৈরিতে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হবে।
Leave a Reply