সিলেটের কথা ::: আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইবনে সিনা সিলেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেছেন, শিশুদের নৈতিক, আদর্শিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, চরিত্রবান, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, আমাদের আগামীর তরুণ প্রজন্মকে মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষাদানই সময়ের দাবি। তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীজ স্কুল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীজ স্কুলের প্রি-স্কুল ও প্রাইমারি শাখার শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সুধীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, তানজিম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীজ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শিক শিক্ষার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জাতির যোগ্য সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শাফি আহমদ, স্কলার্স একাডেমি ঢাকার পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, হিলসিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এখলাছে এলাহী এবং শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান।
স্কুলের কো-অর্ডিনেটর সাঈদ হোসাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে এবং করতালিতে মুখরিত হয় পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শুভেচ্ছা, করতালি ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন শিক্ষাযাত্রার সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখা হয়।
Leave a Reply