1. admin@sylheterkotha.com : admin :
  2. editor@sylheterkotha.com : editor :
July 21, 2026, 3:04 am
Title :
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর্বজনার স্তুপ থেকে জেগে ওঠছে পুকুর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মেসির আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ‎ সিলেটে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু সিলেট মহানগর জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল মদিনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছে জিনান পোল্ট্রি ফার্ম সিলেট বিভাগে সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকবে ভারী বৃষ্টি এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জগতের ঐতিহাসিক আয়োজন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার্স কনফারেন্স সম্পন্ন মদিনা মার্কেটের ঘটনা: তদন্তে নির্দোষ সজিব, রাব্বানী ও রাসেল-অপরাধে সম্পৃক্ততায় গিয়াস ও রিপনকে বহিষ্কার

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর্বজনার স্তুপ থেকে জেগে ওঠছে পুকুর

  • Update Time : Monday, July 20, 2026
  • 9 Time View

Manual4 Ad Code

সিলেটের কথা ::: দীর্ঘদিনের অবহেলা, কচুরিপানা আর আবর্জনার স্তূপে হারিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা পুকুরের প্রাণ। একসময় স্থানীয় মানুষের নানা প্রয়োজনে ব্যবহৃত এই পুকুর এখন পরিণত হয়েছে পরিবেশ দূষণের উৎসে।

Manual7 Ad Code

বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে পুকুরজুড়ে জন্মেছে কচুরিপানা। জমেছে ময়লা-আবর্জনা। চারপাশের জরাজীর্ণ পরিবেশ যেমন নষ্ট করেছে সৌন্দর্য, তেমনি তৈরি করেছে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

অবশেষে পরিত্যক্ত এই পুকুরটি উদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সোমবার দুপুরে অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে কচুরিপানা ও জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ শুরু করেন সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীরা। পুকুরটিকে আবারও ব্যবহারযোগ্য ও দৃষ্টিনন্দন জলাধারে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুকুর পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। আধুনিক উইড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে।

খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনে অবস্থিত এই পুকুর একসময় ছিল এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এটি ধীরে ধীরে পরিণত হয় দুর্গন্ধ, মশা ও পরিবেশ দূষণের উৎসে। চারপাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ছিল সবসময়।

গত ১৪ জুন পুকুরটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পুকুরটির বেহাল অবস্থা দেখে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর ঘোষণা দেন তিনি। সেই ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযানস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সিসিক প্রশাসক বলেন, আমরা কারো দাবির প্রেক্ষিতে নয়, নিজেদের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে একের পর এক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কয়েকদিন আগে খোজারখলায় এসে পুকুরটির দুরবস্থা দেখে এলাকাবাসীকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছিলাম। আজ সেই কাজ শুরু করেছি।

Manual8 Ad Code

তিনি আরও বলেন, পুকুরটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় সম্পূর্ণ ভরে গিয়েছিল। নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনাও ঘটছিল। পরিবেশ দূষণের কারণে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। আমরা অবিলম্বে এটি পরিষ্কার করে খনন করব এবং যতটা সম্ভব পুকুরটিকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।

Manual8 Ad Code

পুকুরটি সংরক্ষণে উদ্যোগী হতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আবর্জনা পরিষ্কার ও খনন করে দৃষ্টিনন্দন করলেই হবে না, পুকুরটিকে সংরক্ষণে এলাকাবাসীকে উদ্যোগী হতে হবে। এটি এলাকাবাসীরই সম্পদ। এলাকাবাসীই এটি ব্যবহার করবেন। তাই পুকুরে যাতে কেউ আবর্জনা না ফেলেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

হাঁটার পথ ও বিনোদনের পরিকল্পনা

শুধু পরিষ্কার করেই থেমে থাকতে চায় না সিটি কর্পোরেশন। পুকুরটিকে ঘিরে একটি নিরাপদ ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রশাসক।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, পুকুরের চারপাশ দিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে। এলাকাবাসী এখানে নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, সময় কাটাতে পারবেন এবং এটি একটি ছোট্ট বিনোদন ও বিশ্রামের স্থানে পরিণত হবে।

এলাকাবাসীর স্বস্তি

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে পুকুরটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষাকালে কচুরিপানা এত ঘন হয়ে যেত যে পানির অস্তিত্বই বোঝা যেত না। ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াত, মশার উপদ্রব বাড়ত এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন থাকত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে পুকুরটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে থাকায় এটি আর কোনো কাজে আসছিল না। নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল সবসময়।

সংস্কার শেষে চারপাশে রেলিং নির্মাণসহ পুকুরটিকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন জলাধারে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিসিকের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রাণ ফিরে পাওয়া এই পুকুর আবারও হয়ে উঠবে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোশাইদ আহমদ, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, খোজারখলা এলাকার বাবুল আহমদ, জামাল উদ্দিন জেছলু, সাগর আহমদ, শিপু আহমদ, সোহেল আহমদ, রেনু, রাজু আহমদ, আজহার অনিক, শ্যামল আহমদ, রাসেল আহমদ, রুনু মিয়া, মিঠু শাহ, বেলাল আহমদ, আফজল উদ্দিন, রুজন আহমদ, কামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Sylheter Kotha
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!