সিলেটের কথা ::: দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না থাকবে না উল্লেখ করে শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দিবো। শনিবার সকালে নগরের টিলাগড়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি কৃষকদের বিকয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন কালে এমন মন্তব্য করেন বাণিজ্য মন্ত্রী। সিন্ডিকেট পথা ভাঙতেই কৃষকরা এই হাটে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এই হাটের উদ্বোধনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, আমদানি নির্ভর পণ্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাজার নজরদারি বজায় রাখতে সরকার সহজে করতে পারবে। এতে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
দেশে টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে জানিয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২শ/৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, এটা কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
সারা দেশে কৃষক যাতে তার উৎপন্ন পণ্য সপ্তাহে একদিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে এসে বাঁশিয়া খাল খনন উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রোজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষি পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন সকালে টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে এই বাজারের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। বাজারটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করা।
বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম।
এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হলে ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন। সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা। সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে।
জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্টের পাশেই বসবে এই বাজার। যেখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের পণ্য সরাসরি বেচাকেনা করতে পারবেন। এতে কৃষকরা পণ্যের সঠিক দাম পাবেন এবং ভোক্তা পর্যায়েও পণ্যের দাম কমবে।
Leave a Reply