1. admin@sylheterkotha.com : admin :
  2. editor@sylheterkotha.com : editor :
May 7, 2026, 11:46 pm
Title :
কোম্পানীগঞ্জে ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ চিকিৎসা সেবায় নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম: প্রফেসর ডা. ফজলুর রহিম কায়সার সিলেট শাহজালাল (রহ.) এর গিলাফ ছড়ানোর মধ্যে ওরস শুরু, ভক্তদের ঢল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক সেবা নিশ্চিতে ৫ অঞ্চলে ভাগ করা হলো সিলেট সিটি করপোরেশন সিলেটে ছিনতাইকারী ও মোবাইল চোর চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব সিলেটের তেলিবাজারে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মে দিবস উদযাপন সামাজিক এই মেলবন্ধনগুলো একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে -কমিশনার কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, এটি চলবে না: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

আমার ছোট্ট ছেলে জানে না ফলের স্বাদ কেমন : গাজার এক মা

  • Update Time : Saturday, August 23, 2025
  • 225 Time View

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: ‘গত পাঁচ মাস ধরে আমরা কোনো আমিষ খাইনি। আমার ছোট্ট ছেলের বয়স চার বছর। কিন্তু সে জানেই না যে ফলমূল আর সবজি দেখতে কিংবা খেতে কেমন।’

কথাগুলো বলছিলেন গাজা শহরে পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাসরত ৪১ বছর বয়সী নারী রীম তৌফিক খাদার। খবর বিবিসি’র।

Manual2 Ad Code

গাজার দুর্ভিক্ষে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের ঘোষণা অনেক দেরিতে এসেছে। কিন্তু তবুও এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতিসংঘ-সমর্থিত এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গাজা উপত্যকার কিছু অঞ্চল জুড়ে দুর্ভিক্ষের ঘোষণার পর সেখানকার বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভয়াবহ ক্ষুধা কীভাবে তাদের শরীরে প্রভাব ফেলছে।

জাতিসংঘ বলছে, গাজার সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে।

তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। গাজা জুড়ে অঞ্চলে যে অনাহার চলছে, সে কথাও ইসরায়েল অস্বীকার করেছে। যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী, একশোর বেশি মানবিক গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের একাধিক সংস্থার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

Manual1 Ad Code

শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন বা আইপিসি বলেছে, গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় ‘সম্পূর্ণভাবে মানবসৃষ্ট’ দুর্ভিক্ষ চলছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, গাজা উপত্যকার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এখন ‘ক্ষুধা, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর’ মতো ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ছয় সন্তানের মা রাজা তালবেহ ২৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় তার বাড়ি ছিল। কিন্তু এক মাস আগে তিনি তা ছেড়ে চলে এসেছেন। এখন তিনি সমুদ্রের ধারে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে থাকছেন।

তার শরীর গ্লুটেন, মানে শস্য জাতীয় খাবার সহ্য করতে পারে না। তাই বাজারে বা আশেপাশে তার খাওয়ার মতো খাবার খুঁজে পাওয়াটা এখন কঠিন বিষয় হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের আগে একটি দাতব্য সংস্থা আমাকে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার পেতে সাহায্য করতো। কারণ ওই খাবার কিনে খাওয়া আমার সাধ্যের বাইরে ছিল।’

Manual8 Ad Code

‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমার যা দরকার, আমি তা বাজারে পাই না। আর পেলেও কিনতে পারি না। প্রতিদিন বোমাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুত জীবন, গরম ও শীত থেকে রক্ষা করতে পারে না এমন এক তাঁবুতে এভাবে থাকা, এর ওপর আবার দুর্ভিক্ষ, এগুলো কি যথেষ্ট নয়?’

২৯ বছরের রিদা হিজেহ জানান, তার পাঁচ বছরের মেয়ে লামিয়ার ওজন ১৯ কেজি থেকে নেমে সাড়ে দশ কেজি হয়ে গেছে। তিনি বলেন যে যুদ্ধের আগে লামিয়ার কোনো রোগ ছিল না।

তিনি বলেন, সবকিছুই হয়েছে কেবল দুর্ভিক্ষের কারণে। ‘একটি শিশুর খাওয়ার মতো কিছুই নেই। কোনো সবজি নেই, ফল নেই।’

Manual1 Ad Code

লামিয়া এখন পা ফোলা, চুল পড়া ও স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছে।

তিনি বলেন, ‘সে হাঁটতে পারে না। আমি বহু ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, ক্লিনিক-হাসপাতাল ঘুরেছি। তারা সবাই বলেছে, আমার মেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে। কিন্তু তারা কেউ কিছু দেয়নি। না চিকিৎসা, না কোনো সহায়তা।’

‘ইউকে-মেড’ নামের একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থার হয়ে গাজায় কাজ করছেন ব্রিটিশ নার্স ম্যান্ডি ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন প্রসবের আগে ও প্রসব-পরবর্তী অবস্থায় যেসব মায়েরা ক্লিনিকে আসেন, তাদের ৭০ শতাংশের শরীরে অপুষ্টি ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।

‘ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের আকার ছোট হচ্ছে এবং তারা বেশ নাজুক’, বলেন তিনি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ২৬৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২৭১ জন দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন। যাদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।

গাজা শহরের বাসিন্দা আসিল বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে আমার ওজন ছিল ৫৬ কেজি। আজ আমি মাত্র ৪৬ কেজি।’ তিনি জানান, তিনি মাসের পর মাস ধরে কোনো ফল বা মাংস খাননি। বেঁচে থাকার জন্য প্রায় সব সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছেন।

আসিল তার ননদের সাথে থাকেন। ননদের এক মাস বয়সী সন্তান আছে একটি। তিনি বলেন, ‘সে (ননদ) মরিয়া হয়ে সাশ্রয়ী দামে শিশুদের গুঁড়া দুধ খুঁজছে।’

তিনি জানান, যদি এটি পাওয়া যায়ও, এর প্রতি ক্যানের দাম পড়ে ১৮০ শেকেল বা ৩৯ ইউরো। ‘আমার কাছে কোনো খাদ্য মজুদ করা নেই, এক-দুই সপ্তাহের মতোও না’, যোগ করেন তিনি।

‘হাজারো মানুষের মতো আমরাও দিন গুণে বেঁচে আছি।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার শাইমা আল-ওবাইদি বলেন, ‘এখানে বসে এ (দুর্ভিক্ষের) ঘোষণাটিকে আপনার চমকপ্রদ কোনো তথ্য মনে হবে না।’

বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে আল-ওবাইদি বলেন, দোসরা মার্চ রমজান মাসে হঠাৎ করে সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাজায় ছিলেন।

আগের দিন, ‘অফিসে এত গুঞ্জন ছিল যে অবশেষে লেটুস বাজারে এসেছিল এবং সেদিন ইফতারের জন্য তারা কী সালাদ তৈরি করবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল’।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই কোনো ধরনের প্রোটিন বা মাংস পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোনো তাজা ফল এবং কোনো তাজা শাকসবজি ছিল না এবং এক মাসের মধ্যে কোনো ময়দা ছিল না। যদি ময়দা পাওয়াও যেত তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে পাওয়া যেত।’

‘মানুষ ঘাস খাচ্ছিল, তারা পাতা খাচ্ছিল’। এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, শিশুরা তাকে বলেছিল ‘তারা চায় তারা মরে যাক। যাতে তারা বেহেশতে গিয়ে খাবার খেতে পারে।’

এমবি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Sylheter Kotha
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!